Header Ads

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ক্যানটনে
পুরুষরা তাদের শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য ভ্রূণ খেয়ে থাকে। আমাদের দেশে যেমন হারবাল
মেডিসিন নিয়ে খুব হৈ চৈ তেমনি সেই প্রদেশে
পাওয়া যায় হারবাল বেবি স্যুপ যা অপূর্ণাঙ্গ ভ্রূণ দিয়ে তৈরি। তাইওয়ানে মৃত শিশুরা ৭০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয় এবং তাদের দিয়ে তৈরি করা হয় গ্রিল। আমরা যেমন চিকেন গ্রিল খাই তেমনি তারা খায় বেবি গ্রিল।কয়েক বছর আগে হংকং থেকে প্রকাশিত "Next" ম্যাগাজিনে এমন একটি তথ্য বেরিয়ে এসেছিল।
.
ভ্রূণ হত্যায় বিশ্বে চীন এবং ভারত হল কুখ্যাত। ১৯৭১ সালের পর থেকে চীনে প্রায় ৩৩ কোটি ৬০
লাখ ভ্রূণ হত্যা করা হয়েছে। (সূত্র: ইন্টারনেট)।
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১১ লাখ ভ্রূণ হত্যা করা হয় এবং গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে প্রায় ৮০ হাজার নারীর মৃত্যু ঘটে। গবেষণা সংস্থা গাটমেচারের তথ্যানুযায়ী,
আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ ৪৬
হাজারেরও অধিক অ্যাবরশন হয় এবং অ্যাবরশন করতে গিয়ে বা পরবর্তী সংক্রমনে প্রায় ৭ হাজার নারীর মৃত্যু ঘটে।
.
আমি আসলে একে অ্যাবরশন বা গর্ভপাত কোনটাই বলি না, আমি বলি নৃশংস হত্যা। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের বেশ কয়েকটা প্রক্রিয়া রয়েছে। ভ্রুণের বয়স যদি ১৩ সপ্তাহের কম হয় তাহলে সাকশন এন্ড অ্যাসপিরেশন পদ্ধতিতে জরায়ুতে একটা সাকশন ক্যাথেটার প্রবেশ করানো হয়। ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের চেয়ে প্রায় ২৯ গুণ বেশি চাপ প্রয়োগ করা এই টিউব ক্ষণিকের মধ্যেই ভ্রূণ শুষে আনে।
ভ্রূণের বয়স যদি ২০ সপ্তাহ বা তার বেশি হয় তবে
এই পদ্ধতি আর কার্যকর হয় না সেক্ষেত্রে
ডায়ালেশন এন্ড ইভাকুয়েশন পদ্ধতিতে প্রায় ১৩
সে.মি লম্বা স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি সোফার
ক্ল্যাম্প (Sopher Clamp) নামক একটা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এটি দেখতে অনেকটা লম্বা কাঁচির মত, মাথা সূক্ষ্ম খাঁজ কাঁটা এবং বেশ ধারালো। এই সোফার ক্ল্যাম্প ইউটেরাসে প্রবেশ করানো হয় এবং শিশুর প্রত্যেকটি অঙ্গ আলাদা আলাদা করে কেটে তারপর টেনে হিঁচড়ে বের করা হয়। মাথা বের করা বেশ কঠিন ব্যাপার সেক্ষেত্রে সোফার ক্ল্যাম্প দিয়ে মাথা ঠিক ততক্ষণ চেপে ধরে রাখা হয় যতক্ষণ ভেঙে চুরমার না হয় তারপর বের করা হয়। এছাড়াও পোস্টাগ্ল্যান্ডিন হরমোন ব্যবহার করে কৃত্রিম প্রসব ব্যথা তৈরি করে প্রথমে শিশুটি জীবিত প্রসব করিয়ে তারপর মেরে ফেলা হয়। এভাবেই একটা নৃশংস হত্যার সমাপ্তি ঘটে।
.
যদি ভেবে থাকেন যে শিশু জন্মগ্রহণ করেনি
সেগুলো বোধ হয় ব্যথা অনুভব করতে পারে না
তবে আপনার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ব্যথা অনুভব করার পুরো ক্ষমতা তাদের থাকে। তা সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন ডা.বার্নার্ড নাথানসন। তিনি" The Silent Scream "নামক ২৮ মিনিটের ডকুমেন্টারিও তৈরি করেন, সেটা
ইউটিউবে আছে।
.
কথা হল চীনে না হয় এতদিন এক শিশু নীতি নির্ধারিত ছিল বলে হত্যাকান্ডের সংখ্যা এত বেশি কিন্তু আমাদের দেশে দিন দিন এই নৃশংসতা বেড়ে যাওয়ার কারণ কি? কারণটা সবারই জানা শুধু স্বীকার করতে
একটু দ্বিধা এই আর কি। যে সমাজে বিয়েকে কঠিন করা হয়,ছেলেরা মনে করে জঞ্জাল আমরা
মেয়েরা ভাবি পরাধীনতা,উভয়ই মনে করি ক্যারিয়ার নষ্টের উপকরণ এবং জীবন ধ্বংসের উপাদান সেই সমাজে সেই দেশে এরূপ নৃশংসতা বাড়বেই স্বাভাবিক। বলে রাখা ভালো এই ৬ লাখ ৪৬ হাজারেরও
অধিক গর্ভপাতের সিংহভাগই ঘটে পবিত্র(??)
প্রেমের কারণে। বর্তমানে প্রেম এবং লিভ
টুগেদার যতটা গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে উল্টোদিকে
বিয়েকে মনে করা হচ্ছে ব্যাকডেটেট কোন
মাধ্যম। কিছুদিন আগে এক মেয়ে লিখেছিল "বিয়ে আর ধর্ষণের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।" আমি জানি না সেই মেয়ে নিজের বাবাকে ধর্ষক মনে করে কিনা। আমার কাছে বিয়ে মানে বিশ্বাস, আস্থা,
পবিত্রতা এবং ইবাদতের অন্যতম মাধ্যম।
.
নিজের চোখে এইরকম অনেক বিবাহিত মেয়েও
দেখেছি যারা ক্যারিয়ারের কথা ভেবে স্বাচ্ছন্দ্যে
নিজের গর্ভের সন্তান খুন করে এসেছে আবার
কিছু কিছু দম্পতিও আছে যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে
অ্যাবরশনকে সমর্থন জানায় শুধু এই অজুহাতে" বিয়ে হয়েছে মাত্র কটা দিন এখনই বেবি!"। বলে রাখা ভালো এর পরিণাম কখনই শুভ হয় না। আগেই বলেছি আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ৭ হাজার নারীর
মৃত্যু ঘটে এছাড়াও দীর্ঘায়িত রক্তক্ষরণ,
ইনফেকশন আবার কারও কারও ক্ষেত্রে
ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক হয়ে আজীবনের জন্য
বন্ধ্যা হয়ে যায়।
.
মাতৃত্ব এবং পিতৃত্ব হল আল্লাহ তা 'আলার অন্যতম
শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। এর মর্ম যারা না বোঝে তাদের
মত পাপী এবং মূর্খ আর নেই। আমরা মেয়েরা
বিয়েকে যতই পরাধীনতার শৃঙ্খল মনে করিনা
কেন একটা নির্দিষ্ট বয়স পর মা ডাক শোনার আকুলতা
যতই থাকুক না কেন তা অাদৌ সম্ভব না। যে নারীর
ভেতর এই আকুলতা নেই দুঃখিত আমি তাকে নারী
বলেই স্বীকার করি না। অনেকে এটা ভাবতে
পারেন পড়াশোনা বাদ দিয়ে আমি বোধ হয় শুধু সংসার
করতে বলছি, ব্যাপারটা তা নয়। আমি নিজে একটা
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। দেশ ও জাতির
প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে আমি পিছপা হতে চাই
না,কাউকে পিছপা হতে বলছিও না। শুধু বলেছি
বাস্তবতাকে অস্বীকার না করা, অন্যতম বাস্তবতা হল
নারী -পুরুষ উভয়ের বয়স বাড়ার সাথে ভবিষ্যত
প্রজন্ম ক্রোমোসোমাল অ্যাবনরমালিটিতে
আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি এবং সেই
সাথে এটাও বলেছি কুরুচিপূর্ণ লাইফস্টাইলকে
সমর্থন না জানানো। ডাস্টবিনে, ড্রেনে যখন কুকুর
বিড়াল নিষ্পাপ প্রাণগুলো কুড়ে কুড়ে খায় তখন
কোথায় থাকে বিয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে
লিভ টুগেদারকে সমর্থন জানানো আধুনিক মানব -
মানবীরা? তাদের বিরুদ্ধে আইনী কোন ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে না? কুরুচিপূর্ণ লাইফস্টাইলের ফলেই
নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয় এই নিষ্পাপ প্রাণগুলো।
এই নৃশংস হত্যাকান্ডের শেষ কোথায় কে জানে!
নিজের সন্তান নিজে হত্যার দায় আজীবন বয়ে
বেড়ানোর ক্ষমতা আছে তো?
.
©তুফফাহুল জান্নাত মারিয়া

No comments

©Taklu Mama Inc. Powered by Blogger.