Header Ads

খেজুর রস খেতে সাবধান!

😉খেজুর রস খেতে সাবধান!

বাদুড়ের প্রস্রাব মনে হয় আমরা কম বেশি সবাই খেয়েছি। মেনে নিতে কষ্ট হলেও এটা সত্যি কথা! কিন্তু তা যে কত ভয়ংকর হতে পারে, তা আমরা অনেকেই জানিনা।

খেজুরের রস আমাদের সবার প্রিয় একটি পানীয়।


খেজুর গাছ চেঁছে রাখা হয় আর সারারাত রস হাঁড়িতে জমা হতে থাকে। খেজুর রস বাদুড়ের প্রিয় খাবার। বাদুড়গুলো সেখানে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝুলে থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় রস খায়।

দীর্ঘসময় ধরে ঝুলে থাকাতে বাদুড়গুলোর মাঝে মাঝে প্রসাবের চাপ লাগে। বাদুড়ের মূত্রথলি ছোট হওয়াও ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ লাগার আরেকটা কারণ।

ফলে তারা তখন রস খায় আর হাঁড়ির ভেতরেই প্রসাব করে ।

তাদের মুখের লালাও রসের সাথে মিশে গিয়ে হাঁড়িতে জমা হয়। পরদিন সেই রস আবার আমরা খাই।
বাদুড়ের এই প্রস্রাব বা লালা খাওয়া তেমন কিছু না, কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হল তাদের এই মুখের লালা ও প্রস্রাবের মাধ্যমে নিপাহ নামক ভাইরাসগুলোও রসের ভেতরে গিয়ে জমা হয়।

সেই রস যখন মানুষ খায়, তখন তারা নিপাহ রোগে আক্রান্ত হয়।

নিপাহ রোগে একবার আক্রান্ত হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা পঁচাত্তর ভাগ। অর্থাৎ, প্রতি চারজনের মাঝে তিনজনই মারা যায়।
নিপাহ ভাইরাসটি ফলখেকো বাদুড়রা তাদের শরীরের ভেতরে বহন করে। এরপর প্রস্রাব বা লালার মাধ্যমে সেটি ছড়িয়ে দেয়। মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এই ভাইরাস ব্রেনকে আক্রান্ত করে এবং একসময় মৃত্যু ঘটায়।

সবচেয়ে বড় কথা হল আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে থেকে হাঁচি কাশির মাধ্যমে এটি আরেকজনের কাছে ছড়িয়ে যায়।

১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার নিপাহ নামক জায়গায় প্রথম এই ভাইরাস সনাক্ত হয়, তাই এর নাম নিপাহ। বাংলাদেশে প্রথম নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় ২০০১ সালে মেহেরপুরে ও সেটি সনাক্ত হয় ২০০৪ সালে।


২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৮৯ জন নিপাহর রুগী পাওয়া গেছে এবং এরমধ্যে ১৪৮ জনই মারা গেছে। তাদের মধ্যে ফরিদপুর এবং রাজশাহী মেডিকেলের দুজন ডাক্তারও ছিলেন। ২০১৫ সালে নয়জন নিপাহতে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে ছয়জনই মারা যায়।

ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত সাধারণত এই রোগের সময়কাল। সবচেয়ে বেশি হয় জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে।

এ পর্যন্ত ফরিদপুর, রাজশাহী, গাইবান্ধা, রাজবাড়ি, রংপুরসহ উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার ৩১ টি জেলায় নিপাহর রুগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফরিদপুরে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।



নিপাহ রোগের লক্ষনঃ
- জ্বরসহ মাথা ব্যাথা
- খিচুনি
- প্রলাপ বকা
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- শ্বাসকষ্ট

নিপাহ আক্রান্ত খেজুরের রস খাওয়ার সাধারণত ২-১৪ দিনের মধ্যে লক্ষনগুলো প্রকাশ পায়। লক্ষন দেখার সাথে সাথে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

নিপাহ থেকে রক্ষা পেতে হলেঃ

- কখনোই খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া যাবেনা (তবে উচ্চতাপে জ্বাল দিয়ে গুড়, ক্ষির, পায়েস বা রান্না করে খাওয়া যাবে)

- কোন ধরণের আংশিক খাওয়া ফল খাওয়া যাবে না। এতে বাদুড়ের লালা মিশ্রিত থাকতে পারে।

- যেকোনো ফলমূল ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে।

- তালের রস (তারি) কাঁচা খাওয়া যাবে না। - সব সময় সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে এবং বেশি বেশি হাত ধুতে হবে।

একটু সাবধান হলেই নিপাহ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

অনেকেই খেজুরের রস খায় কিন্তু সবারই এই রোগ হয় না। কারণ শুধুমাত্র নিপাহ ভাইরাসকে বহন করা বাদুড়ই এই রোগ ছড়ায়। কিন্তু কোন বাদুড় নিপাহ বহন করছে, আর কোনটা করছে না, সেটি জানা সম্ভব না।

এই জন্য খেজুরের কাঁচা রস না খাওয়াই ভাল।

আর যদি খেতে ইচ্ছে করে, কেনা রস নয়, নিজস্ব গাছে বিশেষ প্রটেকশন দিয়ে রসের হাঁড়ি ঢেকে সংগ্রহ করা রস খাওয়া যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে জাল বা নেট জাতীয় জিনিস দিয়ে ঢাকা যাবে না। কারণ বাদুড়ের লালা বা প্রসাব নেটের ভেতর দিয়েও হাঁড়িতে জমা হবে। ঢাকতে হবে এমন কিছু দিয়ে যাতে বাদুড় রসের হাড়ির উপর বসতে না পারে ও প্রসাব-লালা না ছড়াতে পারে।
(collected)

No comments

©Taklu Mama Inc. Powered by Blogger.