হুরপরীর কির্তি,,,,
ছেলে মেয়েটাকে দেখেছে ফেসবুকে। মেয়ে দেখতে হুরপরীর মতো সুন্দরী। মেয়ে একটা করে ছবি আপলোড করে; তা দেখে ছেলের একটা করে হার্টবিট মিস হয়ে যায়! ছেলেই মেয়েটাকে নক দেয়। কথা হতে থাকে। প্রেমও হয়ে যায়। ছেলের আনন্দে মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। প্রেমের ছয়মাস পর তাদের দেখা হয়। মেয়েকে সামনাসামনি দেখে ছেলের মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ার মতো অবস্থা! চাইলাম ভাত,পাইলাম ভাতের মাড়; চাইলাম সালমান শাহ পাইলাম কাজী মাফুর; চাইলাম তাহসান পাইলাম মাহফুজুর; চাইলাম ক্যাটরিনা পাইলাম জরিনা টাইপ অবস্থা! তবে ছেলের এথিক্স ভালো। ব্রেকাপ করে নি। একসময় বিয়েও করে ফেলে!
সংসার মোটামুটি চলতে থাকে। সংসার চলতে চলতে একসময় মেয়ের অনলাইনে একটা ড্রেস পছন্দ হয়। খুব সুন্দর একটা ড্রেস! অনেক দাম। কিন্তু ড্রেসটা তার চাই ই চাই! সে অর্ডার দেয়। বিল পেমেন্ট করে। অবশেষে ড্রেস হাতে এসে পৌছায়। ড্রেস হাতে পাওয়ার পর মেয়ে হু হু করে কেঁদে উঠে। স্বামীকে গিয়ে বলে
-ওগো শুনছো, দেখো অনলাইনে ড্রেসটা কতো সুন্দর অথচ বাস্তবে কতো পচা! আমি এতো টাকা খরচ করে কি এই ড্রেস চেয়েছিলাম?
স্বামী বেচারা বৌকে স্বান্তণা দিতে গিয়ে বলে
- তোমার দুঃখ আমি বুঝি! কি আর করবে বলো?
মেয়ে ফোস করে উঠে
- তুমি ব্যাটাছেলে! আমার দুঃখ তুমি কি বুঝবে!
এরপর আবার হু হু করে কেঁদে উঠে। স্বামী এবার বৌয়ের কান্না থামানোর জন্য মোটিভেশনাল স্পীচ দেয়
-তোমাকে অনলাইনে দেখে,অনলাইনে প্রেম করে সামনাসামনি দেখে আমারও এমনই দুঃখ হয়েছিলো। কি চেয়েছিলাম আর কি পেলাম! কিন্তু আমি কি কেঁদেছি? না! আস্ত একটা মানুষের এরকম দু নম্বরি দেখেও আমি কাঁদি নি। বরং সংসার করছি। আর তুমি সামান্য একটা পোষাকের দু নম্বরি দেখে কাদছো! আবেগ এতো সস্তা হলে চলে? কান্না মুছে ফেলো ময়নার মা! যাও পোষাক টা পরে এসো। আমি তোমাকে একটু দেখি।
.....অতঃপর তাদের ডিভোর্স হয়ে গেলো। স্বামী বেচারা বোঝে নি; পৃথিবীর সবাইকে মোটিভেশনাল স্পীচ দেয়া চলে কিন্তু বৌকে দেয়া চলে না। 😂😂
.
©ওয়াহাব বাদশা
সূত্র: মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের লেখালেখি....

Post a Comment