গল্প:-"রোজ সকাল"
;-/ সকালে ঘুম থেকে দেরী করে উঠা একটা নিয়মিত রুটিনে পরিনত হয়েছে।
তাই আজও তার ব্যাতিক্রম হয় নি। আমি অবশ্য নিয়মিত ভার্সিটি যাই নাহ।
বিকেলে স্যারের বাসায় পরতে যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম।
রাস্তার মোড় পেরুতেই পিছন থেকে একটা মেয়ে ঠিক আমার পাশে এসে আমার পায়ের তালে হাটতে শুরু করেছে।
আমি ব্যাপার টাকে তেমন একটা গুরুত্ব দিলাম নাহ। কিন্তু পরক্ষনেই তা ভুল প্রমান হলো।
-এই যে , আপনার ফোনটা দিন তোহ।(মেয়ে)
-জ্বী, কি বললেন?
-আচ্ছা আপনাকে দেখে তো সুস্থই মনে হচ্ছে।কিন্তু আপনি যে কানে একটু কম শুনেন তা তো জানা ছিলো নাহ।(মেয়ে)
-হোয়াট ননসেন্স! আমি কানে কম শুনবো কেন?
-তাহলে আমি যা বললাম তা আপনি কি শুনেন নাই?(মেয়ে)
-কি বলছেন আপনি
-আপনার ফোনটা দিন।(মেয়ে)
-কেন? আমি আপনাকে ফোন দিবো কেন? আমি তো আপনাকে চিনি নাহ।
-কিন্তু আমি আপনাকে চিনি।(মেয়ে)
-কি করে চিনেন?
-আমি আপনাকে ভালবাসি।(মেয়ে)
-কিহ?
-আচ্ছা আপনি কি সত্যিই কানে কম শুনেন? এতে কিন্তু আমার প্রেসটিজ কমবে। আপনি দ্রুত একটা ডাক্তারের শনাপন্ন হবেন। ওকে।(মেয়ে)
-কি যা তা বলছেন আপনি।
-আমি যা তা বলি নি । বলছি যে আমি আপনাকে ভালবাসি।(মেয়ে)
-আর আপনি আমাকে চিনেনই বা কিভাবে?
-আমি আপনাকে রোজ ফলো করি। আপনার নাম পিন্টু, আপনি এবার অনার্স 2য় বর্ষে ঢাবি তে ফিজিক্স নিয়ে পরছেন।(মেয়ে)
(এখন অবশ্য অবাক হবার পালা,গড়্গড় করে একের পর এক ডিটেইলস বললো)
-আআআআপনি এত কিছু জানেন কিভাবে?
-এত কিছুই না, আরো কত কি জানি।(মেয়ে)
-কিন্তু কিভাবে জানেন?
-কারন আমি আপনাকে ভালবাসি।(মেয়ে)
-কেন ?
-আচ্ছা আমি কিন্তু অনেক আগেই আপনার ফোনটা চেয়েছি। ফোনটা দিন এবার।(একটু ঝাড়ি দিয়ে)(মেয়ে)
(আমিও বাধ্য ছেলের মত পকেট থেকে ফোনটা বের করে দিলাম।)
-এই নিন।
(দেখলাম কি যেনো করলো। বাট ঠিক করে খেয়াল করতে পারি নি)
-এই নিন আপনার ফোন।(মেয়ে)
-কি করলেন?
-কিছু নাহ। যান এবার, আপনার পড়ার সময় চলে যাচ্ছে।(মেয়ে)
আমার নামটা তো আগেই জানলেন। আমি কোথায় পড়াশোনা করি তাও জানলেন।
রাতে বাসায় এসে, ফ্রেশ হলাম।খেয়েদেয়ে শুয়ে পরলাম। ফেসবুক গুতাগুতি করছি।রাত প্রায় ১০ টা বাজে।এমন সময় হটাত ফোন, ঐন্দ্রিলা নামটা ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠলো।
গভীরভাবে ভাবতে ভাবতে কলটা কেটে গেলো। আবার ফোন। এবার রিসিভ করতেই হবে।
-আসসালামুয়ালাইকুম।
-ওয়ালাইকুমুস সালাম।(ঐন্দ্রিলা)
-জ্বী কে বলছেন?
-কানে কম শোনার সাথে সাথে কি চোখেও কম দেখেন নাকি।(ঐন্দ্রিলা)
-চোখে কম দেখবো কেন?
-তাহলে আমাকে আবার জিজ্ঞেস কেন করলেন যে আমি কে? আমার নামটা আপনার ফোনে তো সেভ করাই ছিলো।(ঐন্দ্রিলা)
-ও তার মানে আপনিই সেই অপরিচিতা।
-জি। (ঐন্দ্রিলা)
-তা ফোন করলেন কেন?
-এমনি, ভালবাসার মানুষের খোজ খবর নিতে হবে না, তাই আরকি।(ঐন্দ্রিলা) -কিসের ভালবাসা, আমি তো কিছুই বুঝি নাহ।
( এই নিয়ে সেদিন রাতে অনেক কথা হলো, মেয়েটির নামতো অলরেডি পাবলিশড,ঐন্দ্রিলা এবার আমারই ভার্সিটির ১ম বর্ষের ছাত্রী।)
আজ অনেকটা দিন হয়ে গেলো ঐন্দ্রিলার সাথে আমার পরিচয়, আমি ওকে অপরিচিতাই ডাকতাম।
কিন্তু ভালবাসাই আমি বিশ্বাসি নাহ।বিশ্বাসি না বললে ভুল হবে, বিয়ের আগে বিশ্বাসি নাহ।
জন্ম মৃত্যু বিয়ে তিন বিধাতা নিয়ে।
কার সাথে কার বিয়ে হবে তা শুধু একমাত্র আল্লাহ পাক জানেন।
এক জনের আমানতের উপর আমার কোন অধিকার থাকতে পারে নাহ, না নেই।
আমি যে মেয়েকে ভালবাসি তাকে আদোউ পাবো কিনা তার কি কোন নিশ্চয়তা আছে? না নেই।
সে তো অন্য কারো আমানতও হতে পারে।
তাই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বিয়ে যাকে করবো তাকেই ভালবাসবো।
পড়শুনা কমপ্লিট করে একটা সরকারী চাকুরী করছি।
আমার অবশ্য চাকরী না করলে কারো কোন ক্ষতি হবে নাহ।
আজ অফিস বন্ধ, কারন আজ শনিবার,সরকারি অফিস গুলোতে শনিবার দিন কাজ বন্ধ থাকে।তাই খুব বেলা করে ঘুমাচ্ছি।
পাশের রুম থেকে হো হো হাসাহাসির আওয়াজ পাচ্ছি।তার মানে কোন মেহমান এসেছে।
ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িং রুমে গেয়ে ১২০ ভোল্টের একটা শক খেলাম।
একি , চোখটা ভালোভাবে কচলিয়ে আবার তাকালাম।
আরে এই মেয়েটার তো সাহস কম নাহ। আমার বাসায় চলে আসছে।
আর আমার বোন , মা সবাই তো আসর জমিয়ে ফেলেছে।
আমি আবার আমার রুমে এসে বিছানায় গা টা হেলিয়ে দিলাম।
Like our Page
আমারও যে ঐন্দ্রিলাকে ভাল লাগে না তা নাহ।আমারও ওকে ভাল লাগে।হটাত দরজায় নক।
দেখি ঐন্দ্রিলা আমার দিকেই আসছে।
এসেই আমার উপর চড়ে বসলো।
-কি বলছিলে তুমি, আমাকে ভালবাসতে পারবে না, তাই নাহ? এবার দেখো ।(ঐন্দ্রিলা)
এই বলেই আমার রুম থেকে চলে গেলো।
আমি তো পুরো বলদ হয়ে গেলাম।চুপচাপ বসে আছি।
রাতে আদিবা(ছোট বোন) রুমে আসলো।
-কিরে তলে তলে এতদূর, আর আমরা কিছুই টের পেলাম নাহ।(আদিবা)
-কি যাতা বলছিস। কথা না পেচিয়ে সোজাসুজি বল।
-এই আমার সাথে ন্যাকামি করবি না একদম। মেয়েটার সাথে তোর রিলেশন আমাদের জানাস নাই কেন?(আদিবা)
-কি

Post a Comment